• September 5, 2026, 12:57 pm

শিক্ষকদের জন্য বড় পরিকল্পনা

News Desk 68 Time View
Update : Sunday, August 30, 2026
শিক্ষকদের জন্য বড় পরিকল্পনা
শিক্ষকদের জন্য বড় পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে প্রাথমিক থেকে শুরু করে দেশের সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমে আরও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে।

শিক্ষাক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ সাল থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও খেলাধুলাসহ নতুন কিছু বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রোবটিকস, এআই এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে।

ফলাফলে থাকবে স্বচ্ছ মূল্যায়ন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অতীতে ফল ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানো বা পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানোর মতো চর্চা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার এ ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ

এসএসসিতে অকৃতকার্য কিংবা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

এসব শিক্ষার্থীকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চালু হবে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

পাশাপাশি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির সুযোগ থাকবে। প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণায় গুরুত্ব, ফিরবেন প্রবাসী গবেষকরা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মাহদী আমিন। গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ

শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ উল্লেখযোগ্য।

এসব আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা নয়। বরং দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই শিক্ষা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।


More News Of This Category