বসন্ত রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে কী হয়?

প্রাথমিক ভাবে জ্বর হবে। পরের ২-৩ দিনের মধ্যে জ্বরের মাত্রা বাড়বে। তার সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা হবে। ২-৩ দিন পর থেকে শরীরে র‌্যাশ বের হবে। র‌্যাশ যখন বের হয়, তখন চুলকানির অনুভব হবে। প্রথমে শরীরের মধ্য অংশের সামনের দিকে (বুক বা পেটে), পরে মুখমণ্ডলে র‌্যাশ বের হয়। পরে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে। মুখগহ্বর এবং গলার মিউকাস আবরণীতেও র‌্যাশ বের হয়। ৫-৭ দিন পর্যন্ত র‌্যাশ বের হয়। সেটা ধীরে ধীরে জলভরা ফোস্কার মতো আকার নেয়। পরে ফোস্কার ভিতরের রস ঘন হয়ে পুঁজের মতো হয়। ৭-১০ দিন পর থেকে তা শুকোতে থাকে। শুকিয়ে যাওয়ার পরে র‌্যাশ থেকে খোসা উঠতে শুরু করে। চিকেন পক্সে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পরে।

এই রোগটি কী ভাবে ছড়ায়?

এটি খুব ছোঁয়াচে রোগ। এই কারণে খুব সহজে এবং দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ মানুষের দেহে তা ছড়িয়ে পরে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা থুতুর সঙ্গে ভাইরাস ছড়ায়। এমনকি, রোগীর সংস্পর্শে এলেও রোগ ছড়াতে পারে। তা ছাড়া, ফোস্কার মধ্যে যে রস থাকে তার মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ওই রস সুস্থ ব্যক্তির শরীরে লাগলে রোগ হতে পারে। তবে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। শরীরে ঢোকার ১৪-২১ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে

আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কত দিন অবধি রোগটি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে?

যত দিন র‌্যাশ বের হয় তত দিন তো বটেই, র‌্যাশ বের হওয়া বন্ধ হওয়ার পরেও দিন সাতেক পর্যন্ত এক জন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে রোগটির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

কোন বয়সের মানুষের মধ্যে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে?

এটা নির্ভর করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরে। সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তবে ১-১৪ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে।

এই রোগ থেকে কোনও জটিলতা তৈরি হতে পারে কি?

শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে বা কম থাকলে নানা জটিলতা হতে পারে। সাধারণ ভাবে যে সমস্যাগুলি হয় সেগুলি হল, র‌্যাশ বের হওয়ার সময় চুলকানি এলে অনেকে চুলকিয়ে ফেলেন। তখন তা থেকে ক্ষত এবং সংক্রমণ হতে পারে। নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি বা লিভারের সমস্যাও হতে পারে।

 

এর চিকিৎসা কী ভাবে করা হয়?

এটি কোনও জটিল রোগ নয়। তবে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ আছে। র‌্যাশ বের হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রয়োগ করতে পারলে শরীরে অনেক কম র‌্যাশ বের হয় বা জ্বালা, যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া যায়। ঝুঁকিও কম থাকে। কিন্তু গর্ভবতী মা, সদ্যজাত বা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড ব্যক্তিরা আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হয়। তা না হলে, সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া, উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করা হয়। যেমন, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল বা বেশি চুলকানি হলে তা কমানোর জন্যেও ওষুধ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে ভিটামিন ওষুধ দেওয়া হয়। প্রোটিন যুক্ত খাবার খেতে বলা হয়। প্রচুর পরিমাণ জল পান করতে বলা হয়।

 

এর রোগটি প্রতিরোধের উপায় কী?

আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকাই একমাত্র উপায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায় একটি এলাকাই এই রোগটি বেশি ছড়াচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

 

কারও এক বার চিকেন পক্স হয়ে গেলে তাঁর কি ফের ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

না। কারণ, যার এক বার চিকেন পক্স হয়েছে, তাঁর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। তাই পুনরায় ওই রোগে হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *