বাংলাদেশে আসন্ন রমজান মাসে সরকারি এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলো পুরো মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তটি দেশের ধর্মীয় প্রথা, সাংবিধানিক বিধান এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত, যা রমজানে স্কুল ছুটির বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি ফাহমিদা এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন। এর পটভূমিতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে রমজানের ২১ দিন স্কুল খোলা রাখার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল ৫ জানুয়ারি সরকারকে উকিল নোটিশ পাঠান। নোটিশে তিনি যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগণ মুসলিম, এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার প্রথাই চলে আসছে—এটি আইন, রীতি এবং নীতির অংশ। সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা যাবে না, এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদে প্রথা ও রীতিকে আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে, স্কুল খোলা রাখার সরকারি পরিকল্পনা অসাংবিধানিক এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টিকারী বলে দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্কুল-কলেজ চালু থাকলে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা দিনভরের ক্লাসের পর রোজা রক্ষায় ক্লান্ত হয়ে পড়বে, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে এবং রোজা রক্ষার অভ্যাস থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এছাড়া, শহুরে এলাকায় স্কুল যাতায়াতের কারণে তীব্র যানজট দেখা দেবে, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য অসম্ভব দুর্ভোগের কারণ হবে। এই নির্দেশের মাধ্যমে হাইকোর্ট রমজান ২০২৬-এ স্কুল ছুটির ঐতিহ্যবাহী প্রথাকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যা শিক্ষা, ধর্ম এবং সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।